জাতীয়

বাংলাদেশের বিভিন্ন পরিকল্পনার রূপরেখা ও বিশ্বশান্তির বার্তা প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন: মাহদী আমিন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখা, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমীন এই তথ্য জানান।

উপদেষ্টা জানান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশসহ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন খাতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ২০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড চালুর পাশাপাশি ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ প্রবর্তনের পরিকল্পনা উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি দেশে গণতন্ত্র সুসংহতকরণ, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সফরের তৃতীয় দিনে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীদের সাথে পৃথক বৈঠকে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের কার্যকরের ওপর জোর দেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চারটি প্রস্তাব পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসাথে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্য খাতের বৈঠকে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর কৌশল আলোচনা করা হয়। এর অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফারি পদ অন্তর্ভুক্ত।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে মাহদী আমীন বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অবদানের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মহাসচিব। একইসঙ্গে জলবায়ু সহনশীলতায় বাংলাদেশের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা।

 

আর/আই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #জাতিসংঘ #প্রধানমন্ত্রী #তারেক রহমান #বিশ্বশান্তি