ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিদ্যমান অবরোধের সঙ্গে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হলে ইরানের অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হবে এবং এর ফলে দেশটির সরকার ‘ভেঙে পড়বে’ বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে বেসেন্ট বলেন, এখন তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকবে, নাকি ইরানের সঙ্গে। ইরানের সঙ্গে অর্থ লেনদেন, তেল কেনাবেচা কিংবা সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন অব্যাহত রাখলে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বেসেন্টের জানান, ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরির প্রচেষ্টা। তবে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে চীনও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশই চায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-পথ আবার পুরোপুরি উন্মুক্ত হোক এবং জ্বালানির দাম কমে আসুক। তার দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি যায়। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হলে চীনও এর সুফল পাবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এমএ//