চলতি বছরের মার্চে কাতারে ইরানের হামলার সময় তিন ইরানি যুদ্ধবিমান পাইলটকে জীবিত আটক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছিল তেহরান। তবে এমন দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দোহা বলছে, এ ধরনের দাবি বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর মিল নেই।
শনিবার (১৫ আগস্ট) তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, কাতার ইরানের এই দাবি ‘দৃঢ়ভাবে’ প্রত্যাখ্যান করছে। একই সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলার মধ্যে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিস্ময়ও প্রকাশ করেন তিনি।
আল-আনসারি জানান, ইরানি যুদ্ধবিমান কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর তাদের গতিপথ শনাক্ত করে কাতারি কর্তৃপক্ষ পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। প্রয়োজনীয় প্রটোকল অনুসরণ করার পরও যোগাযোগ সম্ভব না হলে আন্তর্জাতিক আইন মেনে দেশের ভূখণ্ড রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর কাতারের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ পাইলটদের সন্ধানে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে একজন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ইরানের কাছে হস্তান্তরের বিষয়েও তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল বলে জানান কাতারি মুখপাত্র।
তিনি আরও বলেন, এপ্রিল মাসে কাতার ইরানের একটি প্রতিনিধিদলকে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তেহরান সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি।
এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান কমিটির প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচকে লেখা চিঠিতে তিন পাইলটকে কাতারি বাহিনী জীবিত আটক করেছে বলে অভিযোগ করেন।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, ২ মার্চ কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার সময় দুটি সু-২৪ যুদ্ধবিমান কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে ভূপাতিত হয়। এতে পাইলট মাজিদ কাজেমি নিহত হন। অন্য তিন পাইলট—জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরুজিয়ান—জীবিত আটক হন বলে দাবি করে তেহরান।
বাঘেরজাদেহ আরও অভিযোগ করেন, গত ছয় মাস ধরে কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও আটক পাইলটদের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্য বা ইরানি কর্মকর্তাদের যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, এতে জেনেভা কনভেনশনের আওতায় পাইলটদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
আটক পাইলটদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তেহরানকে অবহিত করা এবং মুক্তির উদ্যোগ নিতে আইসিআরসির প্রতি আহ্বান জানায় ইরানের নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান কমিটি।
তবে কাতারের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। দোহা জানিয়েছে, তাদের হেফাজতে কোনো ইরানি পাইলট নেই। বরং নিখোঁজ পাইলটদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে সেটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
এমএ//