আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অস্থায়ী চুক্তির ১২ শর্ত ফাঁস করলো ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ, অন্যদিকে কূটনীতির টেবিলে শান্তির নতুন সমীকরণ। দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হয়েছে ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক। বলা হচ্ছে, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ স্থায়ীভাবে সংঘাতের পথ থেকে সরে আসার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। সমঝোতার পর খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি, আর যুক্তরাষ্ট্রও তুলে নিয়েছে নৌ-অবরোধ।

কিন্তু এই শান্তির চুক্তির আড়ালে আসলে কী আছে? কোন শর্তে মুখোমুখি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ এক টেবিলে বসলো?

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন ও তেহরান। এর মধ্যেই ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ দাবি করেছে, তারা সমঝোতার ১২টি শর্তের তথ্য পেয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতার প্রথম শর্তে বলা হয়েছে—ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করবে। অর্থাৎ আঞ্চলিক সংঘাত কমিয়ে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হবে।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। শর্ত অনুযায়ী, ইরান আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না এবং কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নেবে না।

এছাড়া ইরানের মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়েও সমাধানের পথ খুঁজতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক প্রয়োজনীয়তা নিয়েও চলবে আলোচনা।

সমঝোতার আরেকটি শর্তে বলা হয়েছে, আলোচনা চলাকালীন সময়ে ইরান তার বর্তমান পারমাণবিক কার্যক্রমের অবস্থান অপরিবর্তিত রাখবে।

অন্যদিকে, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না, নৌ-অবরোধ বজায় রাখবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াবে না—এমন শর্তও রয়েছে বলে দাবি করেছে চ্যানেল-১২।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও এসেছে এই সমঝোতায়। শর্ত অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের জন্য এই নৌপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকবে ইরানের ওপর।

এছাড়া সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আটকে থাকা ইরানি অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

চূড়ান্ত চুক্তি হলে ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

শুধু তাই নয়, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, আলোচনা চলাকালে ইরান যেন তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ব্যবস্থা করবে বলেও শর্তে উল্লেখ রয়েছে।

নৌ চলাচল ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনার কথাও বলা হয়েছে।

তবে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত এসব শর্ত নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সমঝোতা বাস্তবে কার্যকর হয়, তবে দীর্ঘদিনের মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এটি হতে পারে বড় একটি কূটনৈতিক মোড়। তবে চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর।

সূত্র: চ্যানেল-১২

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #যুক্তরাষ্ট্র #ইরান #ইসরাইল