ইরানে চলমান বিক্ষোভ নতুন করে তীব্রতা পেয়েছে। টানা আন্দোলনের চাপ সামলাতে খামেনি প্রশাসন মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিপোর্টে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভের সময় সহিংস পরিস্থিতিও সৃষ্টি হচ্ছে।
সরকারবিরোধী এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগও দাবি করেছেন। তারা জানাচ্ছেন, এভাবে চলতে থাকলে জনগণের ক্ষোভ আরও প্রকট হয়ে উঠবে।
সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) রাতের বিক্ষোভে তেহরানের কুদস স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। সেখানে তারা “স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক” স্লোগান দেন, যা আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান রূপকে প্রতিফলিত করছে।
এছাড়া চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে পূর্ব তেহরানে একটি সরকারি ভবনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনটিতে আগুনে জ্বলছে এবং এসময় আশপাশে থাকা বিক্ষোভকারীরা উল্লাস প্রকাশ করছেন।
এদিকে, অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে চলমান বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ছাড়াও বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
টানা বিক্ষোভে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব গভীর চাপে পড়েছে। বহু বছর ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি জুন মাসে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের ধকল সামলাতে হচ্ছে সরকারকে।
কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য ‘দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করেছে। বিক্ষোভকারীদের বিচারের ক্ষেত্রে ‘কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র ও প্রভাবশালী নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি গেল বুধবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকে এই আন্দোলনের জন্য ‘অভূতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বড় পরিসরে নতুন বিক্ষোভ আয়োজনেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানায়, ‘১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ দমন করতে অবৈধ বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারী ও সাধারণ পথচারী নিহত ও আহত হয়েছেন।’
এদিকে মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের কুহচেনার শহরে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির একটি ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে উল্লাস করছেন বিক্ষোভকারীরা।
এইচআরএএনএ বলছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবগুলোতেই মোট ৩৪৮টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের বরাতে সংবাদ সংস্থা এএফপির হিসাবে জানা গেছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি অনেক বেসরকারি সংস্থার।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল