রাজধানী

ঢাকার বাতাসে বিষ!

বায়ান্ন প্রতিবেদন

প্রতিবছর শীতকালে ঢাকায় বায়ুদূষণ বেড়ে যায়, তবে এবার শীত শুরুর আগেই রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়েছে। দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান শীর্ষে থাকছে। বিশেষ করে বাতাসে ক্ষুদ্র বিষাক্ত কণার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শিশুসহ সব বয়সী মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই অবস্থার জন্য দায়ী ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রবেশ করা দূষিত বাতাস। সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞরা সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুই প্রথম শ্বাস নিচ্ছে বিষাক্ত বায়ুর মধ্যে। ফলাফল জন্মের পরপরই শুরু হচ্ছে এক ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা!

শীতে এ শহরের বাতাসে যতটা না কুয়াশা তার থেকেও বেশি থাকে ধুলার আস্তরণ। প্রতিবার শ্বাস নেয়ার সঙ্গে যেন ঢুকছে বিষ। বাঁচার জন্য যে শ্বাস নিতে হয় সে শ্বাসই বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এদিকে বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে এবার শীতকালে কুয়াশায় বেশি পাওয়া যাচ্ছে পিএম ২.৫ বা ছোট বিষাক্তকণা, যা মানুষের ফুসফুসে ঢুকে বাড়াচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। আর তার প্রথম শিকার হচ্ছে শিশুরাই।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লুনা পারভীন গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুরা বাইরে গেলে, খেলাধুলা করলে ধুলার কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, এই সমস্যাটা বেশি দেখা যাচ্ছে। বংশগত এই সমস্যার বাইরেও আমরা এ ধরনের রোগী পাচ্ছি, যাদের আগে কখনও শ্বাসকষ্ট ছিল না। নতুন করে তাদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এবং সহজে ভালো হচ্ছে না।  

বায়ুমণ্ডল দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্র বলছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার গড় একিউআই ছিল ২০০, যা বিগত ১১ বছরের ডিসেম্বরের গড় ২০৫ এর তুলনায় কম হলেও যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।

বায়ুমণ্ডল দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামারুজ্জামান মজুমদার বলেন, বিগত ৯ বছরে আমরা মাত্র ৫০ দিন নির্মল বায়ু পেয়েছি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধুলোবালি শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটি শহরের গাছপালা, পরিবেশের স্বাভাবিক সৌন্দর্য এবং সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতাকেও নষ্ট করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এসব ক্ষতির কথা জানা থাকা সত্ত্বেও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নেই তেমন কার্যকর উদ্যোগ।

এদিকে দূষণের তালিকায় বারবার ঢাকা শীর্ষে চলে আসার পেছনে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অতিরিক্ত যানবাহন, ইটভাটার মতো সুনির্দিষ্ট কিছু কারণকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বায়ুমণ্ডল দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামারুজ্জামান মজুমদার বলেন, দূষণের অবস্থা পরিমাপ করার জন্য মেশিনের কোনো প্রয়োজন নেই, খালি চোখেই দেখা যায়। রাস্তায় যখন দেখা যায় একটা ফিটনেসবিহীন গাড়ি কীভাবে ধোঁয়া ছেড়ে যাচ্ছে, এভাবে প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করছে।  

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রবেশ করা দূষিত বাতাসই বাংলাদেশে বায়ুদূষণের জন্য দায়ী।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, পশ্চিমবাংলা, বিহার থেকে দূষিত বাতাস এখানে প্রবেশ করে এ সময়ে। এটা একটা বড় ব্যাপার, যেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে নীতিমালা করা হচ্ছে কীভাবে বায়ুদূষণ রোধ করা যায়।      

সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই প্রয়োজন সমন্বিত নীতিমালা, কড়াকড়ি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বায়ুদূষণ #ঢাকা #শিশু #বিষ #স্বাস্থ্যঝুঁকি