দেশজুড়ে

শিক্ষাঙ্গনে পুরোনো ‘গণরুম-টর্চার’ সংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা চলছে : রফিকুল ইসলাম খান

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন,  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতীতের ভয়াবহ গেস্টরুম, গণরুম ও টর্চার সেলের সংস্কৃতি আবারও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা। সেখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয়করণের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর নানা ধরনের নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। গেস্টরুম, গণরুম কিংবা টর্চার সেলের মতো পরিবেশে শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ছাত্র সংসদে যোগ্য ও নীতিবান শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে পরিবর্তন আসে।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষক কেবল পাঠদানকারী নন; শিক্ষার্থীদের চরিত্র, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম কারিগর। অথচ অতীতে শিক্ষার্থীদের রাতভর নির্যাতন, হামলা এবং আহত করার মতো ঘটনা ঘটেছে। আহত শিক্ষার্থীদের পর্যন্ত পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার নজির রয়েছে। এমন কর্মকাণ্ড শিক্ষকের মর্যাদা ও দায়িত্বের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না।

বক্তব্যে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, শিক্ষাঙ্গনে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে এবং নিজেদের মেধা ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে পারবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ মাইন উদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন সিরাজগঞ্জের উপদেষ্টা ও জেলা জামায়েত আমির মাওলানা শাহীনুর আলম, জেলা জামায়েত সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি: মো. শহীদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।

আলোচনায় বক্তারা শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জাতি গঠনে শিক্ষকদের দায়িত্ব, সামাজিক মর্যাদা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন