ফুটবল

ভোজিনহার দুর্ভেদ্য দেয়ালে আটকে গেল স্পেন

বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল হিসেবেই টুর্নামেন্টের নবাগত দল কেপ ভার্দে'র বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল স্পেন। কাগজে-কলমে শক্তির ব্যবধান ছিল আকাশ-পাতাল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সেই হিসাবকে ভুল প্রমাণ করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করেছে স্পেন। এরই মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে দেখা গেল প্রথম গোলশূন্য ম্যাচ।

ম্যাচ শেষে আবেগে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতেই। পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে তিনি ছিলেন স্পেনের সামনে এক অদম্য প্রাচীর।

শুরু থেকেই আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্পেন। প্রত্যাশামতো বলের দখল পুরোপুরি নিজেদের কাছে রাখে দলটি। অন্যদিকে কেপ ভার্দে প্রায় পুরো দল নিয়ে নিজেদের অর্ধে অবস্থান নেয় এবং সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। তবে সেই সুযোগও খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি তারা।

প্রথম উল্লেখযোগ্য শটটি নেন পেদ্রি। তবে তা সহজেই সামাল দেন ভোজিনহা। এরপর একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে স্পেন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আসে স্পেনের সেরা সুযোগগুলো। ফেরান তোরেসের শট ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। ফিরতি বলে ওয়ারইয়ারসাবালের হেডও অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ভোজিনহা।

প্রথমার্ধের পর ইয়ামাল মাঠে নেমে বল স্পর্শ করলে গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসের ঢেউ ওঠে। তার তৈরি সুযোগ থেকে মেরিনো গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর ইয়ামালের প্রতিটি স্পর্শে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় স্পেনের আক্রমণ।

শেষ ২০ মিনিট প্রায় পুরোটা সময় কেপ ভার্দের অর্ধে খেলেছে স্পেন। কিন্তু কখনও ডিফেন্ডারের পা, কখনও মাথা, আর কখনও ভোজিনহা তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কুকুরেয়ার হেড, দানি ওলমোর সৃজনশীলতা, নিকো উইলিয়ামসের গতি কোনো কিছুই কাজে আসেনি।

ম্যাচের শেষ দিকে ইয়ামাল ও ওলমোর দারুণ সমন্বয়ে ওয়ারজাবাল গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পিকো লোপেস শেষ মুহূর্তে শট ব্লক করে গোল খাওয়ার হাত থেকে দলকে বাচায় ।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কেপ ভার্দের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় উদযাপন। কারণ স্পেনের মতো এক পরাশক্তির বিপক্ষে ড্র তাদের জন্য জয়ের সমান।

অন্যদিকে স্পেনের জন্য এটি হতাশাজনক শুরু। তবে ইতিহাস তাদের কিছুটা সান্ত্বনা দিতে পারে। ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন।

 

আর/আই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন