আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফরিস

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হলে দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হবেন ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা হাকিম জেফরিস। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রস্তুতির পর সেই সুযোগ এখন তার সামনে। তবে স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা সামলানোও তার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠবে।

বুধবার (০৪ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৩ সালে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার পর থেকেই জেফরিসকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ নেতা। তাদের পরিকল্পনা ছিল, ন্যান্সি পেলোসি অবসরে গেলে জেফরিস যেন স্পিকারের দায়িত্ব নিতে পারেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

স্পিকার নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার নির্ধারণের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় ভাইস প্রেসিডেন্টের পরই থাকবে জেফরিসের অবস্থান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও পড়বে তার ওপর।

তবে দলের নেতৃত্ব ধরে রাখাই হবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বামপন্থী ও সমাজতান্ত্রিক ঘরানার নেতাদের সমর্থন আদায় সহজ হবে না। স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও ইসরায়েল ইস্যুতে জেফরিসের মধ্যপন্থী অবস্থান নিয়ে দলের একটি অংশের আপত্তি রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মতপার্থক্যও সামলাতে হবে তাকে।

যেসব পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চান জেফরিস

ক্ষমতায় গেলে ধনীদের ওপর কর বাড়ানো, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য কঠোর নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নে গুরুত্ব দিতে চান জেফরিস। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

তবে দলের মধ্যে বিভক্তি বাড়াতে পারে—এমন ইস্যুতে অপ্রয়োজনীয় ভোটাভুটি এড়িয়ে চলতে চান তিনি। এর পরিবর্তে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে

ব্রুকলিনের বাসিন্দা হাকিম জেফরিস ২০১৩ সালে প্রতিনিধি পরিষদে যোগ দেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান তিনি। পরে ২০২২ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। এরপর থেকে দলটির সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।

এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে জেফরিস পেয়েছেন ৭৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী লুইস মিজরাহি পেয়েছেন ১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট। সংবাদ সংস্থা এপির প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের দায়িত্ব নিতে পারেন হাকিম জেফরিস। এতে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসবেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ নেতা।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন