দেশজুড়ে

টানা বৃষ্টিতে পাবনায় নুয়ে পড়েছে ধান, ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে নুয়ে পড়েছে কাচা পাকা ধান। ভারী বৃষ্টি ও মাঝারি বাতাসে রোপা ও আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও পানিতে ডুবে আছে কাঁচা-পাকা ধান, আবার কোথাও হেলে পড়েছে মাটিতে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পারার শঙ্কায় দিশেহারা কৃষকেরা।

সোমবার (২ নভেম্বর) ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকৃতির বৈরী আবহাওয়ায় এবার যেন সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে ঈশ্বরদীর কৃষকেরা। উপজেলার বাঘহাছলা, ভবানীপুর, পৌর এলাকাসহ এবং মুলাডুলি ও দাশুড়িয়া ইউনিয়নের আশপাশের নিচু এলাকার ধানক্ষেতগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অনেক ক্ষেতের ধান গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে রোপা ও আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষমাত্রা ১৩ হাজার ৬৬১ মেট্রেক টন ধান। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেই আবাদ নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

কৃষকদের হিসাবে, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হয়। আর এক বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে ধান ডুবে যাওয়ায় এবার ফলন নেমে আসতে পারে মাত্র ১০ মণে।

শুধু ফসলের ক্ষতিই নয়, নতুন করে বিপাকে পড়েছেন ধান কাটার শ্রমিক নিয়েও। পানিতে নেমে ধান কাটতে শ্রমিকদের অনীহা থাকায় দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। বাড়তি মজুরি দিয়েও সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না অনেকে।

ধারদেনা করে চাষাবাদ করা কৃষকদের দুশ্চিন্তা এখন আরও বেড়েছে। ফসল নষ্ট হলে পরিবারের সারা বছরের খাবারের চালের জোগান এবং ঋণের টাকা পরিশোধ কোনোটিই সহজ হবে না। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন তারা।

ধান চাষী আইনাল আলী বলেন , আমি সাড়ে ৪ বিঘা ধান চাষ করেছি, বৃষ্টির পানিতে ধান ডুবে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এবার ধান চাষ করে লাভবান হতে পারবোনা।

মোস্তব মোল্লা নামের আরেক কৃষক বলেন, এবার ৫০ হাজার টাকা ধার করে ধান চাষ করেছি, তাতে ধারের টাকাটাও ফেরত দিতে পারবোনা। এসব চিন্তা ভাবনায় অসুস্থ্য হয়ে পড়েছি।

কৃষক মিলন মন্ডল জানান, সার বীজ কীটনাশক জমির চাষ এর দাম বেড়েছে খরচ বেশী হচ্ছে। তারপরেও সার চাহিদা মতো পাচ্ছিনা। আবার বৃষ্টিতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। সব মলিয়ে কৃষকরা শেষ। এতে সরকারী সহযোগীতা প্রয়োজন আমাদের।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া কয়েকদিনে বৃষ্টিতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ধান চাষীদের তালিকা করে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন