কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, প্রায় অর্ধশত গাড়ি ভাঙচুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক যানবাহনের গ্লাস ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি দুই-একটি দোকানে হামলার ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরে পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে চলা শ্রমিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকরা অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা কাজ শুরু করলে শ্রমিকদের সঙ্গে দফায় দফায় মুখোমুখি অবস্থান ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও মাঠে রয়েছেন। গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কাজ করছেন। বিভিন্ন স্থানে তারা শ্রমিকদের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকাল থেকেই শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি হয় এবং কিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশের তৎপরতায় বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তবে থেমে থেমে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা আবারও সড়কে অবস্থান নিচ্ছেন। পুলিশ একদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে অন্যদিকে শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন। সকালের দিকে পরিস্থিতি অনেক বেশি উত্তপ্ত ছিল এবং মহাসড়কে শ্রমিকদের উপস্থিতিও ছিল বেশি। বর্তমানে তাদের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
এদিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর ঘোষণা না আসায় তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরে মোট ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন।
আই/এ