বিনোদন

অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণেই ভাঙতে বসেছিল শাহরুখ-গৌরীর সম্পর্ক!

বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি শাহরুখ খান ও গৌরী খানের দাম্পত্য জীবনের বয়স তিন দশকেরও বেশি। দীর্ঘ এই পথচলায় তাদের সম্পর্ক ভক্তদের কাছে ভালোবাসা ও বন্ধনের উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে সম্পর্কের শুরুর দিনগুলো এতটা সহজ ছিল না।

গৌরীর পোশাক থেকে শুরু করে চুলের ধরন—সবকিছু নিয়েই একসময় আপত্তি জানাতেন শাহরুখ। তার অতিরিক্ত অধিকারবোধ ও নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গৌরী।

নিজের অতীতের সেই আচরণের কথা বহু বছর আগেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন শাহরুখ। প্রখ্যাত টেলিভিশন উপস্থাপক সিমি গারেওয়ালের অনুষ্ঠান ‘রঁদেভু উইথ সিমি গারেওয়াল’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, প্রেমের দিনগুলোতে গৌরীর প্রতি তার অধিকারবোধ ছিল মাত্রাতিরিক্ত।

সাক্ষাৎকারে শাহরুখ বলেন, আমি গৌরীকে স্পষ্ট করে বলেছিলাম—তুমি যদি আমার প্রেমিকা হও, তবে খোলা চুলে বাইরে যেতে পারবে না কিংবা সাদা শার্ট পরতে পারবে না।

প্রেমিকের এমন বিধিনিষেধ মেনে নিতে পারেননি গৌরী। শাহরুখের এই আচরণকে তিনি অযৌক্তিক ও নিয়ন্ত্রণমূলক বলে মনে করেছিলেন। একপর্যায়ে সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

সেই সময়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে গৌরী একই সাক্ষাৎকারে শাহরুখের আচরণকে অত্যন্ত জঘন্য ও অসুস্থ মানসিকতার প্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

গৌরী বলেছিলেন, আমি সরাসরি বলে দিয়েছিলাম—বিদায়, তোমার সঙ্গে আর কোনো দিন দেখা করব না।

গৌরীর এমন দৃঢ় অবস্থান শাহরুখকে নিজের আচরণ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। পরবর্তী সময়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আচরণে পরিবর্তন আনেন অভিনেতা। ফলে সম্পর্কের সেই গভীর সংকট শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদে গড়ায়নি।

শাহরুখ ও গৌরীর পরিচয় ১৯৮৪ সালে, দিল্লিতে এক বন্ধুর আয়োজিত অনুষ্ঠানে। তখন শাহরুখের বয়স ছিল ১৮ বছর আর গৌরীর ১৪। শুরুতে কিছুটা লাজুক শাহরুখ ধীরে ধীরে গৌরীর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

দীর্ঘ প্রেমের পথ পেরিয়ে ১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর বিয়ে করেন এই যুগল। তাদের সংসারে রয়েছে তিন সন্তান—আরিয়ান, সুহানা ও আব্রাম।

সম্পর্কের শুরুর সেই টানাপোড়েন পেরিয়ে আজ শাহরুখ ও গৌরী বলিউডের পরিচিত তারকা দম্পতিদের একজন। তাদের দীর্ঘ দাম্পত্যের গল্পে যেমন ভালোবাসার অধ্যায় রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভুল বোঝা, মতের অমিল ও নিজেদের বদলে নেওয়ার অভিজ্ঞতাও।

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন