দেশজুড়ে

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

নজরুল-সুইটির বিয়ের খবর কতটা সত্য?

সৌদি আরবের মসজিদ কম্পাউন্ডে যুবকের সঙ্গে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে নজরুলের পরিবার। তাদের নবদম্পতি পরিচয়, হানিমুনে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়া কিংবা স্ত্রীর কপালে চুমু দেওয়ার কারণে মৃত্যুদণ্ডের মতো দাবি ছড়িয়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। তবে নজরুলের পরিবারের দাবি, সুইটি আক্তার তার স্ত্রী ছিলেন না।

নজরুলের মা রহিমা বেগমের দাবি, তার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। ছেলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছিল, কীভাবে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়েছে, সে সম্পর্কেও তারা বিস্তারিত জানতে পারেননি। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়ার পর এখন তার একটাই চাওয়া, শেষবারের মতো সন্তানের মরদেহটি দেখা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। আব্দুল বাছির ও রহিমা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার একটি জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তিনি। পরে মক্কা নগরীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

নজরুলের স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর একটি ঘটনায় গ্রেপ্তার হন তিনি। তবে গ্রেপ্তারের খবর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন প্রায় এক মাস পর।

ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের স্মৃতি তুলে ধরে রহিমা বেগম জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রায় প্রতিদিনই বাড়িতে ফোন করতেন নজরুল। কিন্তু হঠাৎ প্রায় এক মাস তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে একদিন ফোন করে নজরুল জানান, তিনি কারাগারে আছেন। তবে কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানতেন না বলে মাকে জানিয়েছিলেন।

রহিমা বেগমের বর্ণনা অনুযায়ী, একদিন কাজে যাওয়ার পথে পুলিশ নজরুলের পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে কী অভিযোগে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা পুলিশ জানায়নি বলে দাবি তার।

সুইটি আক্তারের সঙ্গে ছেলের সম্পর্কের বিষয়ে রহিমা বেগম বলেন, নজরুল অবিবাহিত ছিলেন। ওই নারীকে তারা চেনেন না। ছেলেও কখনো তার কথা পরিবারকে জানাননি। তাদের মধ্যে বিয়ের সম্পর্ক থাকলে পরিবারের সদস্যরা অবশ্যই তা জানতেন বলে মনে করেন তিনি।

ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে না পারার আক্ষেপও রয়েছে এই মায়ের।

রহিমা বেগমের দাবি, নজরুল আরবি ভাষা বুঝতেন না। ফলে নিজের নির্দোষতার কথা যথাযথভাবে তুলে ধরতে পেরেছিলেন কি না, তা নিয়েও তার সংশয় রয়েছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা-ও বুঝতে পারেননি তারা।

রহিমা বেগম ভেবেছিলেন, ছেলে হয়তো কয়েক বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকায় তার ধারণা ছিল, পাঁচ বছরের সাজা হলে মেয়াদ শেষে ছেলে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে।

এখন সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানাচ্ছেন তিনি। শেষবারের মতো ছেলেকে ছুঁয়ে দেখতে চান রহিমা বেগম। তার কাছে এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া, সন্তানের মরদেহটি ফিরে পাওয়া।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের মক্কা নগরীর একটি মসজিদ কম্পাউন্ডে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ খবর পাওয়ার পর ওই রাতেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন