আন্তর্জাতিক

ভারতের আসামে ১১শর বেশী মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসামে দুই দিনে ১১শরও বেশী মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। পরিবারগুলোর বেশীরভাগই বাঙালি মুসলিম। রাজ্যের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় এ অভিযান চালানো হয়। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর এসব অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের সময় অনেক বাসিন্দা উচ্ছেদ সরঞ্জাম পৌঁছানোর আগেই নিজেদের মালপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তবে তারা অবৈধ দখলদার সরকারের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি তাদের পূর্বপুরুষ বন বিভাগের শ্রমিক ছিলেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রচলিত ‘টাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার আওতায় সরকারই তাদের সেখানে বসতি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছিল।

উচ্ছেদে বসতবাড়ি হারানো আবদুল নূর নামে একজন বলেছেন,  ১৯৭৪ সালে তার পরিবারকে ওই জমি দেওয়া হয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করেছেন, উচ্ছেদ অভিযানে কয়েক দশক পুরোনো ১০টিরও বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে।

উচ্ছেদের শিকার পরিবারগুলো উচ্ছেদের বিরুদ্ধে গৌহাটি হাইকোর্টেও গিয়েছিলেন। কিন্ত লাভ হয়নি। গত জুন মাসে আদালত তাদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার জনস্বার্থ সেখানে বসবাসের ব্যক্তিগত দাবির চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। আদালত নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেয়। 

গত বছরের নভেম্বর মাসেও আসামের লুটুমারি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। ওই অভিযানে প্রায় ১৭ ‘শ  পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। এ ছাড়া, হোজাই জেলার যমুনা-মৌডাঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং গোলাঘাট জেলার ২ নম্বর নেঘেরিবিল এলাকাতেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

আসাম সরকার জানিয়েছে, বনভূমি ও সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে এসব অভিযান চলছে।

সরকারি সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে পরিসংখ্যানে জানা গেছে, আসামে বিজেপির এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম। বনভূমি সংরক্ষণ ও সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের যুক্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে দীর্ঘদিনের বসতি, ভূমির অধিকার এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিয়ে বিতর্ক চলছে। 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন