আন্তর্জাতিক

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও দিল্লিতে ধরপাকড়, আটক শতাধিক বিক্ষোভকারী

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের আটক অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। অথচ শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া আটক না করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেস এলাকা থেকে সিপিআই(এম) নেতা জন ব্রিটাসসহ প্রায় ১০০ জনকে আটক করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের দুটি বাসে তুলে এলাকা থেকে সরিয়ে নেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারী সন্দেহে একটি বার্গারের দোকান থেকেও একজনকে টেনে বের করা হয়। তবে ওই ব্যক্তি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার কথা জানালে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নিতে আর কে আশ্রম মেট্রো স্টেশনের আশপাশে কয়েকটি খালি বাস রাখা হয়। একই সময়ে ওই এলাকায় মানুষের জমায়েতও বাড়তে থাকে।

এর আগে শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গণহারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ এবং ৯ অক্টোবরের আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ নিয়ে জরুরি শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। 

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আটক করার ক্ষেত্রে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশ দেন।

আদালত দিল্লিতে মেট্রো ও রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট সংযোগ সচল করা এবং মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালত প্রাঙ্গণের আশপাশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জারি করা নোটিশ সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ পান।

অন্যদিকে, শনিবার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিক্ষোভ আয়োজনের চেষ্টার অভিযোগে ২০টির বেশি এফআইআর করেছে দিল্লি পুলিশ। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।

বিক্ষোভের ডাক দেওয়া সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং বলেন, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ ঘটনাই পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন