বিদায় ম্যাচেও মেসিকে লাল ও হলুদ কার্ড দিলেন রেফারি
বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে সেদিন ম্যাচ শেষ হয়েছে। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত। গ্যালারিজুড়ে তখন বিদায়ের আবেগ, আর মাঠের সব আলো যেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসিকে ঘিরে।
ঠিক সেই মুহূর্তে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দিকে এগিয়ে আসেন ম্যাচের রেফারি ফার্নান্দো ভেখার। হাতে তার বিশেষ একটি উপহার—একটি লাল ও একটি হলুদ কার্ড।
ফুটবল মাঠে এই দুটি কার্ডের অর্থ সবাই জানেন। কিন্তু মেসির বিদায়ী রাতে সেগুলোর অর্থ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোনো ফাউল, কোনো অপরাধ কিংবা শাস্তি নয়; বিশ্ব ফুটবলে মেসির অসামান্য অবদানকে সম্মান জানাতেই রেফারি ভেখার কার্ড দুটির বিশেষ সেট তুলে দেন তার হাতে।
হেসেই সেই স্মারক গ্রহণ করেন মেসি। যেন দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে ফুটবল মাঠের পরিচিত দুটি প্রতীকই হয়ে উঠল ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার চিহ্ন।
শুধু লাল-হলুদ কার্ড নয়, বিদায়ী ম্যাচে ব্যবহৃত অফিশিয়াল বলটিও মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয়। ফলে রাতটির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আর্জেন্টাইন অধিনায়কের হাতে থেকে গেল দুটি বিশেষ উপহার।
তবে মাঠে মেসির শেষ রাত শুধু বিদায়ের আবেগেই থেমে থাকেনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০৮তম ও শেষ ম্যাচেও তিনি দেখিয়েছেন নিজের চিরচেনা ফুটবল জাদু।
বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার তিন গোলের প্রতিটিতেই সরাসরি অবদান ছিল তার। ৪৮ মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দিকে দিয়ে গোল করান মেসি। ৬১ মিনিটে তরুণ নিকো পাজও তার পাস থেকে জালের দেখা পান। এরপর ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
নিখুঁত সেই শটে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১২৬তম গোল পূর্ণ করেন মেসি। বিদায়ী রাতেও যেন নিজের গল্পটা নিজের মতো করেই লিখলেন তিনি—একটি গোল, দুটি সহায়তা আর আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়।
আকাশি-নীল জার্সিতে ৩৯ বছর বয়সে শেষবার মাঠে নামা মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও তাই আরও সমৃদ্ধ হয়ে শেষ হলো। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮ ম্যাচে তার গোল ১২৬টি, আর সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ৭০ বার।
একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের শেষ দৃশ্যে তাই শুধু স্কোরবোর্ডেই থেকে গেল না মেসির নাম। রেফারির পকেট থেকে বের হওয়া লাল-হলুদ কার্ড আর বিদায়ী ম্যাচের বলও হয়ে থাকল তার শেষ আন্তর্জাতিক রাতের স্মৃতি।
যে কার্ড এতদিন প্রতিপক্ষের জন্য ছিল সতর্কবার্তা, মেসির বিদায়ের রাতে সেটিই হয়ে গেল এক কিংবদন্তির প্রতি ফুটবল বিশ্বের শ্রদ্ধার প্রতীক।
এসি//