রাজধানী

দাবি পুলিশের

‘হামলাকারীরা জানত না স্টুডিওটি সালমান মুক্তাদিরের’

জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যে পড়ে স্টুডিওটি হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক। হামলাকারীরা স্টুডিওটি সালমান মুক্তাদিরের এ বিষয়টি জানত না বলেও দাবি করেন তিনি।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নাজমুল হক।

তিনি বলেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড ও পাশের একটি জমির মালিকের মধ্যে বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটে। এর সঙ্গে চাঁদাবাজির কোনো সম্পর্ক নেই এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও হামলাকারীদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যেই স্টুডিওটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলাকারীরা সম্ভবত জানতই না যে জায়গাটি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও। ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে তথ্য ছড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান নাজমুল হক। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।

তবে সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, বিএনপির কিছু লোক তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় প্রতিশোধ হিসেবে স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকা আসেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফেসবুক লাইভে নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন সালমান মুক্তাদির।

ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা সংশ্লিষ্টরা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। তবে হামলায় স্টুডিওতে থাকা কেউ আহত হননি বলে জানা গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমার পক্ষ থেকে একটা মামলা করতে হবে, ফরমালিটির জন্য। ক্লায়েন্টদের ডেলিভারি ধরলে, ওরা তো ওদের জিনিসপত্র এখানে রেখে গেছে। ওদের বিভিন্ন ফুটেজ থেকে শুরু করে অনেকগুলো শুট এখানে করা হয়। একটা শুটে কত খরচ, সেটা আপনারা জানেন। সেখানে ৩০-৪০টা ক্লায়েন্টর যখন সবকিছু নিয়ে যায়, কত ক্ষতি হতে পারে- এটা চোখ বন্ধ করেও একটা ধারণা করা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারেননি তিনি। 

সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’

ফেসবুক লাইভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামোদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন