দেশজুড়ে

“একটা শখ জাগছে,আমি একটা জ্যাতা নোমো পুড়মু” হুমকি দেয়া সেই বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফলে ব্যবসায়ী ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে জীবিত পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা মো. ফরিদ উদ্দিন গাজীকে (৪৫) দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপি অভিযুক্ত ফরিদকে চেক জালিয়াতের এক মামলায় আগেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত  প্যাডে সংবাদ মাধ্যমে এর বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আপনার (ফরিদ উদ্দীন গাজী) বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে প্রাণনাশের হুমকি, বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জীবিত পুড়িয়ে মারার হুমকি সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। যা সংগঠনের শৃঙ্খলা ও আদর্শের পরিপন্থি বলে প্রতীয়মান হয়। এ ঘটনায় দলের শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

এমতাবস্থায়, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আপনাকে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

এর আগে বিএনপি নেতার হুমকির কল রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশে  ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ছড়িয়ে পড়া ওই ফোনালাপে বিএনপি নেতা ফরিদ গাজী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘দাদু, আমার নাম ফরিদ গাজী, বাবার নাম শামসুল হক গাজী। বিলবিলাস বাজারের কাছে আমার বাড়ি। আমার একটা শখ জাগছে, আমি একটা জ্যাতা নোমো (হিন্দু) পুড়মু। সেক্ষেত্রে আপনাকে বাইছা নিছি, এক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনি চাইলে কথা রেকর্ড করে রাখতে পারেন, আপনার সুবিধা হবে। সকালে আপনারে খুঁজে আসছি। কী জন্য, ওইডা সাক্ষাতে বলমু। আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে?’ ফোনালাপের ওই অংশে ফরিদ গাজীর বক্তব্যের পর গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে সংক্ষিপ্তভাবে জবাব দিতে শোনা যায়। একপর্যায়ে ফরিদ গাজী তাকে এলাকায় আসার সময় জানতে চান। পরে তাদের মধ্যে আরও কিছু কথোপকথন হয়।

অভিযুক্ত ফরিদ গাজী বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।

এদিকে, পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। একই দিন বিকেলে চেক জালিয়াতির  একটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে পাঠানো হলে সেখান থেকে জামিন পান । পরবর্তীতে শুক্রবার রাত ১০ ঘটিকার সময় গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল বাদী হয়ে একটি মামলা করেন, বাউফল থানা পুলিশ শনিবার অভিযুক্ত ফরিদ গাজী কে এ মামলায় আবার গ্রেপ্তার করে

জিডির অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন। প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদ গাজী তার মুঠোফোন নম্বর থেকে কল করে তাকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামের গৌরাঙ্গ চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে। তিনি ঢাকায় আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, এর আগেও আমাকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন । যদি টাকা দেই তাহলে সে আমার পক্ষে থাকবে টাকা না দিলে আমার ব্যানার ফ্যাস্টুনও থাকবেনা  তবে আগের কথোপকথনটি রেকর্ড করতে পারিনি। সর্বশেষ হুমকির ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার রাতে বাউফল থানায় জিডি করেছি। পরবর্তী তে শুক্রবার রাতে মামলা করেছি আমার জীবন হুমকির মুখে আমি ন্যায় বিচার চাই,

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ৫২ টেলিভিশন কে বলেন , ‘ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলতবে এই আলোচিত বিষয়  একটি জিডি থাকায় সেটা বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করি , গত রাতে গোবিন্দ মন্ডল বাদী হয়ে মামলা করেন,   ফরিদ উদ্দিন গাজী গতকাল জামিনে আসলে  হুমকির ফোনালাপ এর মামলার  অভিযোগে গ্রেপ্তার শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন