মন্দিরের মেহেদি পরলে এক বছরের মধ্যে নিশ্চিত বিয়ে, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি
মন্দিরের মেহেদি হাতে পরলেই এক বছরের মধ্যে বিয়ে—এমনই বিশ্বাস ভক্তদের। আর সেই বিশ্বাসকে ঘিরেই ভারতের জয়পুরের বিখ্যাত মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে নেমেছিল মানুষের ঢল। বিয়ের বাধা কাটিয়ে কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী পাওয়ার আশায় হাজারো মানুষ ছুটে আসেন মেহেদি নিতে। এতটাই ভিড় হয় যে মাত্র তিন ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে যায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিঞ্জারা উৎসব উপলক্ষে মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। মন্দিরে বিশেষ মেহেদি বিতরণ করা হবে—এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সেখানে আসতে শুরু করেন। ভিড়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মেহেদি বিতরণ শুরু করে মন্দির কর্তৃপক্ষ।
মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরের ভক্তদের কাছে সিঞ্জারা মেহেদির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যাদের বিয়েতে নানা ধরনের বাধা রয়েছে, তারা মন্দিরে মেহেদি দেন। পরে সেই মেহেদি হাতে পরলে এক বছরের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করেন ভক্তরা।
মন্দিরের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মাত্র তিন ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি বিতরণ করা হয়। দিল্লি, চণ্ডীগড়সহ ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে ভক্তরা মেহেদি নিতে মন্দিরে আসেন। তাদের অনেকেই আগের রাতেই মন্দির এলাকায় পৌঁছে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মন্দিরের বাইরে দীর্ঘ সারি ও মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। অতিরিক্ত মানুষের সমাগমে আশপাশের এলাকায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়। মন্দির প্রাঙ্গণে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলির ঘটনাও ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ভিড়ের মধ্যে মহারাষ্ট্রের এক নারী ভক্ত অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করেন ব্যবহারকারীরা। কেউ রসিকতা করে জানতে চান, ‘সালমান খান কোথায়?’ আবার একজন মন্তব্য করেন, এত অবিবাহিত মানুষ থাকার পরও দেশের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
আরেক ব্যবহারকারী লেখেন, আগে নিজেকে প্রস্তুত করে তারপর জীবনসঙ্গীর খোঁজ করা উচিত। কেউ আবার নিজের কর্মসংস্থানের সমস্যার সঙ্গে বিষয়টি তুলনা করে মন্তব্য করেন, কাজের সন্ধান মিলছে না, অথচ অনেকের চিন্তায় শুধু বিয়ে।
গণেশ চতুর্থীকে কেন্দ্র করে সিঞ্জারা উৎসব পালিত হয়। মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে সারা বছরই ভক্ত ও পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে সেখানে মানুষের উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়। বিয়ে নিয়ে প্রচলিত নানা লোকবিশ্বাসের সঙ্গেও মন্দিরটির নাম দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে।
এসি//