লাইফস্টাইল

বই পড়লে বাড়ে স্মৃতিশক্তি, কমে মানসিক চাপ

দিনের ব্যস্ততায় হাতে বই তুলে নেওয়ার সময় যেন ক্রমেই কমে আসছে। অবসর কাটাতে এখন অনেকেরই সঙ্গী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অথচ মনের প্রশান্তি থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য—দুটির জন্যই বই পড়ার অভ্যাস বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত বই পড়লে স্মৃতিশক্তি বাড়ার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হতে পারে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক বারবারা সাহাকিয়ান ও তাঁর দল পাঁচটি জরিপ এবং আটটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পর্যালোচনা করে বই পড়ার এমন নানা উপকারের কথা জানিয়েছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থের পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করে। এর ফলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হয়। পাশাপাশি বাড়ে বুদ্ধিবৃত্তিক সঞ্চয়, যা মস্তিষ্ককে বয়সজনিত বিভিন্ন পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে।

বিশেষ করে ছোটবেলা থেকে আনন্দের জন্য বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে এর প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে যারা আনন্দের জন্য বই পড়তে শুরু করে, তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি পরিপক্ব হয়। বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগের সময় বই পড়ার অভ্যাস তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

শুধু মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নয়, মানসিক প্রশান্তিতেও বই পড়ার ভূমিকা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বই পড়লে মানসিক চাপ কমতে পারে এবং একাকিত্বের অনুভূতিও কিছুটা দূর হয়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মিত বই পড়া স্মৃতিশক্তি হ্রাসজনিত রোগ বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

কল্পকাহিনি পড়ারও রয়েছে আলাদা উপকার। গল্পের বিভিন্ন চরিত্র, পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে মানুষ বাস্তব জীবনের নানা পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারে।

নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষক ফক হুয়েটিগ বই পড়াকে মস্তিষ্কের একধরনের ব্যায়াম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তার মতে, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আনন্দের জন্য পড়া। কারণ পছন্দের বই পড়লে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বেশি সময় ধরে এবং নিয়মিত পড়ার সুযোগ পায়।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে বই পড়ার অভ্যাস থেকে মানুষ ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় মুঠোফোনের পর্দা থেকে দূরে থেকে বই হাতে নেওয়া তাই হতে পারে মস্তিষ্কের যত্ন ও মানসিক প্রশান্তির একটি সহজ অভ্যাস। আনন্দের জন্য নিয়মিত পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনাই হতে পারে সেই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন