ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, পাল্টা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা
ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গেল দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে দুই দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে জাহাজটি হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।
এরপর পাল্টা অভিযানে ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সেন্টকমের দাবি, এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১, এম/টি রিয়েস্কো ও এম/টি দেরিয়া হামলার শিকার হয়েছে।
সেন্টকম জানায়, হামলার আগে জাহাজগুলোর নাবিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে অচল করে দেওয়া হয়। এম/টি রিয়েস্কো ডুবে যাওয়ার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
এর জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের দাবি, হামলায় ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই এলাকার মাধ্যমে হতো। হামলার পর জাহাজটির নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। একই সময়ে ওমান উপসাগরের জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইরান।
পরে আইআরজিসি জানায়, মোট পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও করে তারা। এসব হামলায় যুদ্ধজাহাজ দুটির ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
আরেক বিবৃতিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এই দুটি মার্কিন জাহাজ আগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা ডেস্ট্রয়ার দুটিই কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরানের এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। এতে কোনো হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটি।
ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও বিভিন্ন অংশ যেখানে পড়েছে, সেসব এলাকা নিরাপদ করতে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে বলেও জানিয়েছে জর্ডানের সামরিক বাহিনী।
এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে তেহরান।
এমএ//