ক্যাম্পাস

আবারও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষ, আহত ১

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় তানজীম লাবিব নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয় আহত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী   

বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গাঁজা সেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে গাঁজা সেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সদস্য সচিবের অনুসারী রাশেদুল হাসান রাতুল চারুকলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।

এর জেরে সদস্য সচিবপন্থীরা বিদ্রোহী হল থেকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসেন। সেখানে আহ্বায়কপন্থী নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং মুহূর্তেই তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় এক পক্ষ অগ্নিবীণা হলে এবং অন্য পক্ষ বিদ্রোহী হলে অবস্থান নিলে পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন

আহত তানজীম লাবিব বলেন, আমাদের সবাই অগ্নিবীণা হলের ভেতরে চলে গেলেও শাহাবুল আলম হলের গেট বন্ধ করে দেওয়ায় আমি ভেতরে যেতে পারিনি। তখন অপর পক্ষের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায় এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে

0?ui=2&ik=173ada6a85&attid=0.1&permmsgid=msg-f:1875466535170296482&th=1a06fee088f54aa2&view=fimg&fur=ip&permmsgid=msg-f:1875466535170296482&sz=s0-l75-ft&attbid=ANGjdJ-oF2U6ne04Am4FOSyFg_A6st6rxgL-o3jx1C47p3fn_1WEsN6etv8N0HlUZK3XjYo8RhQ2BeGldeHukP5QLjglJhzQ5BtFiSZdzvAR8AfpcE1jlEW72eewNkE&disp=emb&realattid=ii_1a06fed8632cb1801b31&zw

ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ছাত্রলীগবিরোধী মিছিল চলাকালে পেছনে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। সেখানে সাবেক ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি ছিল, যারা বর্তমানে ছাত্রদলের একটি গ্রুপের সঙ্গে রয়েছে। আমি সেখান থেকে সবাইকে সরিয়ে আনি। পরে তারা একজন যুগ্ম-আহ্বায়ককে নিয়ে যায়। সেখানে গেলে ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারীদের প্রতিহত করতে গিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে

অন্যদিকে সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্য আমি সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু সাবেক নেতা পরিস্থিতিকে উসকে দেন। পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে

ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনো পদে ছিল না এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না, তাদের মধ্যে যারা ছাত্রদলের রাজনীতি করতে চেয়েছে তাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ একটি বিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাত ১ টা থেকে ২৯ জুলাই বিকেল পর্যন্ত বহিষ্কৃত ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দুইজন আহত হন। প্রায় এক মাসের ব্যবধানে একই সংগঠনের দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল

 

আর/আই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন