আন্তর্জাতিক

মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান ইরানি প্রেসিডেন্টের

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরানে ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, মতভেদ থাকলেও মুসলিম দেশগুলোর উচিত অভিন্ন স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, আগ্রাসনের মুখে তার দেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করেছে।

তিনি বলেন, ইরান দুর্বল নয় এবং নিজেদের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করতে হয়, তা তারা জানে।

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার মতে, জনসংখ্যা ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের তুলনায় মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত অর্থনৈতিক সক্ষমতা এখনও যথেষ্ট নয়।

পেজেশকিয়ান বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত ৫৭টি দেশ নিয়ে গঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) গুরুত্বপূর্ণ স্থল ও সমুদ্রপথ, জ্বালানি সম্পদ, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং বড় বাজারের ওপর অবস্থান করছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালে ওআইসির সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্ব অর্থনীতির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে সদস্যদেশগুলোর মোট রপ্তানির মাত্র ১৯ শতাংশ অন্য ওআইসি সদস্যদেশগুলোতে গেছে। বাকি রপ্তানি হয়েছে সংস্থার বাইরের দেশগুলোতে।

এ কারণে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

আঞ্চলিক সংঘাত নিয়েও বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান। তিনি দাবি করেন, ইরান কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানো উচিত নয় বলেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো মুসলিম দেশ প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। একইভাবে, একটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে আরেকটি মুসলিম দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

সূত্র: আলজাজিরা

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন