ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি
সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান ফেরার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক। এ সময় বিমানবন্দরে ভুটানের রাজাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানোর জন্য ভুটানের রাজার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
এ সময় তিনি ভুটানের চতুর্থ রাজা এবং বর্তমান রাজার পিতা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বৈঠকে দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারা বেগবান করতে শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেন ভুটানের রাজা।
এ সময় ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী উদ্যোগ ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরে এতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক কল্যাণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এমন আঞ্চলিক উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ এই পরিবেশে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এর জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং সরকারের পদস্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি শেষে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিশেষ ফ্লাইটে ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক।
আর/আই