ধর্ষণের পর মায়ের লাশ জঙ্গলে, নদীতে মিললো ছেলের মরদেহ
মাদারীপুরের শিবচরে জঙ্গল থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে তাঁর এক বছরের শিশুসন্তানের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় ফারুক মোল্লা নামে এক ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার নিলখী এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড়মেহের এলাকার সাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে শম্পা খাতুনের বিয়ে হয়। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল আবির। ওই নারীর স্বামী একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকার ফারুক মোল্লার সঙ্গে। ফারুকের বাড়িতে ওই নারীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর লাশ জঙ্গলে ও শিশুসন্তানকে ফেলে দেওয়া হয় আড়িয়াল খাঁ নদে।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি গ্রামের খানবাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার বিপরীতে একটি পরিত্যক্ত স্থানের ঝোপ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিবচর থানা-পুলিশ ও মাদারীপুর র্যাব যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে ফারুককে আটক করা হয়। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত পোড়ানো ওড়না, নাকফুল, গলার চেইন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি নিহতের এক বছর বয়সী সন্তানকে আড়িয়াল খাঁ নদে সেতু থেকে ফেলে দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন। পরে নদীতে তল্লাশি চালিয় পুলিশ। আজ সকালে স্থানীয়রা মরদেহতি ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর শাম্পাকে হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে মরদেহ ভারী হওয়ায় বাড়ির পাশের ঝোপে ফেলে রাখা হয়।
আই/এ