পে-স্কেল নিয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল চলতি অর্থবছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চলতি অর্থবছরেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো দেওয়ার কথা থাকলেও আগের সরকার ১১ বছরেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করেনি।
প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আনতেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
বর্তমান সরকারের জন্য জ্বালানি সংকটকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, জ্বালানি সংকট শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রণয়নে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিটি তাদের সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করেছে।
কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের পাশাপাশি অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। কমিশনটি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রতিবেদনে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এসি//