আন্তর্জাতিক

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানার সব পুলিশকে বরখাস্ত

পাকিস্তানের লাহোরে থানা প্রাঙ্গণের ভেতরে এক মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ও তদারকিতে ব্যর্থতার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও)সহ মোট ৭৮ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার গভীর রাতে লাহোরের গাজীবাদ থানা পরিদর্শনের পর এ সিদ্ধান্ত দেন ডিআইজি (অপারেশনস) ফয়সাল কামরান। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করার অভিযোগে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, তদন্ত শাখার এএসআই ইমরান একটি পুলিশি মামলার বিষয়ে কথা বলার কথা বলে ওই তরুণীকে তার বাসা থেকে মোটরসাইকেলে করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে থানার ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার দুই দিন পর অভিযুক্ত এএসআই ইমরানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনার পরপরই গাজীবাদ থানার এসএইচও, দুইজন সাব-ইন্সপেক্টর, আটজন এএসআই, ফ্রন্ট ডেস্কের কর্মীসহ থানার মোট ৭৮ জন সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়।

ডিআইজি ফয়সাল কামরান জানান, থানার অভ্যন্তরে সংঘটিত প্রতিটি কর্মকাণ্ডের দায়ভার সংশ্লিষ্ট এসএইচও-এর ওপর বর্তায়। তদারকিতে গাফিলতি বা দায়িত্ব পালনে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় লাহোর পুলিশ জানায়, থানা পর্যায়ে জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতেই এ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গাজীবাদ থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তদারকি স্বাভাবিক রাখতে আলী জেব দস্তগীরকে নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এএসআই ইমরানের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন