জাতীয়

সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন,গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার ‘পেট্রোনাস’ কোম্পানির সাথে আলোচনা চুড়ান্ত হয়েছে, যার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কনটেইনারের মাধ্যমে এলএনজি গ্যাস দেশে আনা হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় জ্বালানি খাতকে লুটপাটের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খাত পুনর্গঠনে সময় লাগবেরাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারকে নানা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং বিভাজিত প্রশাসন পেয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত অবস্থায় ছিল। বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও বিভাজিত প্রশাসনের মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার তাতক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এখনো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে বিএনপি সরকার

জুলাই আন্দোলন নিয়ে তিনি আরও বলেন,  আমরা আমাদের অবস্থান থেকে পরিষ্কারভাবে সাফ বলে দিয়েছি এই জুলাই আন্দোলনের সফলতার ক্রেডিট এই দেশের সর্বস্তরের জনগণের। এর কৃতিত্ব কোন একক ব্যক্তি, একক কোন রাজনৈতিক দলের এটি কোন ক্রেডিট নয়। বিগত ১৭ বছর এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মী, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী আরও অনেকগুলো রাজনৈতিক দল সবাই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল। মাঠ ছেড়ে আমরা কখনো চলে যাইনি। আমরা কখনোই জনগণকে একা ফেলে মাঠ ছেড়ে চলে যাইনি।

বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে বিশাল এলাকায় নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কাজ চলছে, যেখানে চীনা ও কোরিয়ান বিনিয়োগ আসবে। পাশাপাশি বিটিএমসি-র বন্ধ পড়ে থাকা প্রায় ৫০টি মিল-কারখানা বেসরকারি খাতে চালু করে হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ ফান্ড চালু করা হয়েছে।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন