হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি না থাকলে বড় বড় সিংহাসন কেঁপে উঠবে: সিজেপি’র দীপকে
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় টানা আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। প্রায় দুই মাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তার পদত্যাগ।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে ভারতে ফিরে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
মূলত ভারতের সব তরুণরা একত্রিত হওয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।
ককরোচ পার্টির অভিজিৎ দীপকে এ বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, যদি তাদের দেশে হিন্দু ও মুসলিমরা এক থাকে এবং বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করে তাহলে এরচেয়েও বড় বড় সিংহাসনে কাঁপন ধরে যাবে।
তিনি বলেন, “যদি কোনো হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি না থাকে এবং শুধুমাত্র ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি হয় তখন বড় বড় সিংহাসনও কেঁপে যাবে। যখন আমরা হিন্দু-মুসলিম রাজনীতির ঊর্ধ্বে যেতে পারব এবং ইস্যু নিয়ে কথা বলব তখন এটি দেশের জন্যই মঙ্গল হবে।”
অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে উদ্দেশ্য করে অভিজিৎ বলেছেন, “বলা হতো এ সরকারে (মোদি সরকার) পদত্যাগের কোনো নিয়ম নেই। দুনিয়া ঠিকই মাথা নত করে। শুধু মাথা নত করানোর জন্য লোকা থাকা চাই।” এরমাধ্যমে তিনি তার পার্টি ও বিক্ষোভকারীদের ধৈর্য ও অনড় অবস্থানের কথা বুঝিয়েছেন।
ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি হলো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’। প্রতিবছর লাখো শিক্ষার্থী চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই ক্ষোভ থেকেই শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন, যা শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন মোড় নেয়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসি//