গল্পের জাদুকরের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ
আজ ১৯ জুলাই, বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী ও অসম্ভব জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই শব্দশিল্পী। চলে যাওয়ার এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার অমর সৃষ্টি, উপন্যাস ও চলচ্চিত্রগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে আজও সমাদৃত। প্রিয় লেখকের প্রয়াণ দিবসে সারা দেশে তাকে গভীর ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে।
পেশাগত জীবনে হুমায়ূন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। তবে সাহিত্যের প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগের কারণে একপর্যায়ে অধ্যাপনা ছেড়ে পুরোপুরি লেখালেখি ও চলচ্চিত্র পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেন।
তার সাহিত্যযাত্রার শুরুতেই 'নন্দিত নরকে' উপন্যাসটি পাঠক মহলে তুমুল সাড়া ফেলে। এরপর তার কলম থেকে একে একে বেরিয়ে আসে হিমু, মিসির আলী ও শুভ্রর মতো কালজয়ী সব চরিত্র, যা বাংলা কথাসাহিত্যে আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। শুধু লেখালেখিই নয়, সেলুলয়েডের ফিতাতেও তিনি দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা; নির্মাণ করেছেন 'আগুনের পরশমণি', 'শ্যামল ছায়া' ও 'ঘেঁটুপুত্র কমলা'র মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র।
সাহিত্যে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ গাজীপুরের নুহাশপল্লীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রিয় লেখককে স্মরণ করছেন। নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে গেলেও নিজের কালজয়ী সৃষ্টির মাঝে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন পাঠকদের হৃদয়ে।
আর/আই