কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে, শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (১৮ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, বনাঞ্চল ও ঝোপঝাড় যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হওয়ায় কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে “দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাস” ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি এ ঘটনাকে কানাডার “ইচ্ছাকৃত অবহেলা” উল্লেখ করে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেন।
বর্তমানে কানাডাজুড়ে প্রায় ৮৮৮টি দাবানল জ্বলছে, যার অধিকাংশই এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। শুধু অন্টারিও প্রদেশেই ১৯০টির বেশি দাবানল সক্রিয় রয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন। এদিকে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কানাডার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে কানাডা এসব অভিযোগ নাকচ করেছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এমন দুর্যোগ মোকাবিলা দুই দেশের যৌথ দায়িত্ব। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীও জানান, দাবানল নিয়ন্ত্রণে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই একসঙ্গে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে।
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডও ট্রাম্পের সমালোচনার জবাব দিয়ে বলেন, অভিযোগ তোলার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাঠানো।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল ও নর্থ ক্যারোলিনার ঘূর্ণিঝড়ের সময় কানাডা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছিল।
দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাবে মিনেসোটা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও ও নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিছু এলাকায় মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে।
ঘন ধোঁয়ার কারণে নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভও ঝাপসা হয়ে গেছে। কম দৃশ্যমানতার কারণে কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাবানলের ধোঁয়া কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত মানে না। বাতাসের গতিপথ অনুসারেই তা ছড়িয়ে পড়ে। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের দাবানলের ধোঁয়া কানাডায় পৌঁছেছিল।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বর্তমানে কানাডার দুর্গম বনাঞ্চলে অনেক আগুন জ্বলছে, যেখানে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কঠিন। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বজ্রপাত—এসব কারণে দাবানলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
এমএ//