ডাকাতির নাটক সাজিয়ে জা কে হত্যা, রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে পারিবারিক কলহের জেরে ডাকাতির নাটক সাজিয়ে আপন বড় জা রিগান আক্তার মীমকে (২৪) শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে সুমাইয়া আক্তার মিনা (২৩)। গত ১৫ জুলাই রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড বাতলা বেপারী বাড়িতে সাবেক চেয়ারম্যান মুকুল হকের বসতঘরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সে। চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুমাইয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছে তার জা এর সঙ্গে শুরু থেকেই বনিবনা হচ্ছিল না। প্রতিহিংসার জেরে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
লুৎফর রহমান জানান, বুধবার রাতে মিম খুন হওয়ার পর তার ছোট জা মিনা দাবি করেন, তাদের বসতঘরে ডাকাতদল হানা দিয়েছে। ডাকাতরা তাকে বেঁধে রেখে মিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিনাকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশের কাছে এবং আদালতে পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, নিহত রিগান আক্তার মীম ২০২০ সালে শাহরাস্তির সাইফুল ইসলাম রনির সাথে বিয়ে হয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তাদের সংসারে সাইকা (৩) ও সিরাত (৩ মাস) নামে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
ঘটনার দিন ১৫ জুলাই সকালে রিগানের জ্যা নাজমিন বেগম (৫৫) ও ছোট দেবর রিমন (২৫) চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। রাতে সুযোগ বুঝে সুমাইয়া মিমকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ডাকাতির ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করে।
ঘটনার সময় পাশের বাড়ির চাচা মিজান (৬৫) চিৎকারের শব্দ পেয়ে রিগানের বাবা মো. কবির হোসেনকে খবর দেন। এসে তারা মেয়ের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে ১৬ জুলাই শাহরাস্তি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আই/এ