স্বাস্থ্য

টাইফয়েডের টিকাদানের তারিখ ঘোষণা, যে বয়সী শিশুরা পাবে

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-তে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের জন্য এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) যুক্ত করা হচ্ছে। শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।   

এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন, সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  

নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৫ সালে জাতীয় টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের পর জাতীয় টিকাদান কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে এই টিকা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ মাস বয়সী সব শিশুকে ইপিআইয়ের স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এক ডোজ টিসিভি প্রদান করা হবে।

একই সেশনে এমআর-২ (গজ-২) টিকার সঙ্গে এই টিকা একযোগে দেওয়া যাবে।

মাঠকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশু শনাক্ত, টিকার চাহিদা নির্ধারণ এবং নির্ধারিত সেশনে টিকাদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া শিশুদের ভ্যাক্স : ইপিআই অ্যাপে নিবন্ধন, টিকা কার্ড ডাউনলোড এবং টিকা প্রদানের পর স্মার্ট হেলথ্ বিডি/ই ট্র্যাকার অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভার মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সহজীকরণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত কর্মসূচিতে ৫ ডোজের ভায়াল ব্যবহার করা হবে এবং ভ্যাকসিন ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হবে।

মাল্টিডোজ ভায়াল নীতিমালা অনুসরণ করে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে খোলা ভায়াল পরবর্তী সেশনেও ব্যবহার করা যাবে, যাতে ভ্যাকসিনের অপচয় কমানো সম্ভব হয়।

এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, মাইকিং, উঠান বৈঠক এবং আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে টাইফয়েড টিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

পি/ডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন