আন্তর্জাতিক

‘ন্যাটো’ শান্তির জন্য ‍হুমকি: উত্তর কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ন্যাটোর সাম্প্রতিক সম্মেলনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, সামরিক জোট আরও শক্তিশালী করা, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং অস্ত্র সংগ্রহ বাড়ানোর মাধ্যমে ন্যাটো বৈশ্বিক উত্তেজনা উসকে দিচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ন্যাটো নেতারা পিয়ংইয়ংয়ের বৈধ সার্বভৌম অধিকার চর্চাকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করে জোটভিত্তিক মুখোমুখি অবস্থান আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ৫০০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক ক্রয় ও প্রতিরক্ষা শিল্পসংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয়ে আরও বেশি অবদান রাখার আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেন, গবেষণা ও উন্নয়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং অস্ত্রব্যবস্থা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় সিউল।

তবে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, ন্যাটো এখন শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবর্তে যুদ্ধ এবং সংঘাতের দিকে ধাবিত একটি জোটে পরিণত হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি-স্থিতিশীলতার বিনিময়ে জোটটি নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের মুখে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের প্রশ্ন এখন অতীত। বরং নিরস্ত্রীকরণের উদ্যোগ শুরু হওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার আওতায় থাকা দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং ন্যাটোর পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগি ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া সদস্য দেশগুলোর দিক থেকে।

উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দায়িত্বশীলভাবে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশটির নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।

এর একদিন আগে, শুক্রবার (১০ জুলাই) কেসিএনএ জানায়, নেতা কিম জং উনের নির্দেশনায় উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা পরিমাণগত ও গুণগত—উভয় দিক থেকেই আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি দেশটির সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন