জাতীয়

প্রতারণার শিকার হয়ে কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১০৯ জন

ছবি: সংগৃহীত ফাইল ছবি

ভালো চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া আরও ১০৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। কম্বোডিয়ার একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার করার পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর ফলে চলতি জুন মাসে কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশির সংখ্যা ৫৮৩ জনে পৌঁছেছে।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১টা ২৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

দেশে ফেরার পর প্রত্যেক ভুক্তভোগীকে বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

ফিরে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ, দালাল চক্র উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক মাসের ভিজিট ভিসায় তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কাজের বৈধ ভিসার ব্যবস্থা না করে অর্থের বিনিময়ে তাদের একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, সেখানে বিদেশি নাগরিকদের টার্গেট করে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে মারধর, বৈদ্যুতিক শকসহ বিভিন্ন ধরনের অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি স্ক্যাম সেন্টারের ভেতরে নির্যাতনের জন্য আলাদা কক্ষও ছিল।

তাদের ভাষ্য, পরে কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই স্ক্যাম সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে। তবে অভিযানের আগেই পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের অন্যতম ভয়াবহ রূপে পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হচ্ছে। যারা নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হন, তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রকে চিহ্নিত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ বাংলাদেশি কাজের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে দেশে ফেরা ব্যক্তিদের দাবি, কাজ না পেয়ে বা প্রতারণার শিকার হয়ে এখনো কয়েক হাজার বাংলাদেশি সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ব্র্যাক জানিয়েছে, পাচারকারী চক্র ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ ও কাস্টমার সার্ভিস অফিসারের মতো আকর্ষণীয় পদের বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের প্রলুব্ধ করে।

সংস্থাটি আরও জানায়, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর বন্দুকের মুখে জিম্মি করে তাদের স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয়।

থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে চাকরির প্রস্তাব, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও ভিসার ধরন ভালোভাবে যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্র্যাক।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন