খেলাধুলা

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন নিয়ে শঙ্কা, দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায়ের পূর্বাভাস!

বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু ৯০ মিনিটের খেলা নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন আর অগণিত হিসাব-নিকাশের মঞ্চ। মাঠে বল গড়ানোর আগেই শুরু হয়ে যায় সম্ভাবনার লড়াই। কে জিতবে, কে হারবে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশেষজ্ঞরা হাজির করেন নানা বিশ্লেষণ, পরিসংখ্যান আর ভবিষ্যদ্বাণী।

২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরেও এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে জার্মান অর্থনীতিবিদ ও গবেষক জোয়াকিম ক্লেমেন্টের এক চমকপ্রদ পূর্বাভাস।

তার দাবি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যেতে পারে দ্বিতীয় রাউন্ডেই।

ক্লেমেন্টের তৈরি বিশেষ গাণিতিক মডেল বলছে, আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে হতে যাওয়া নকআউট ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে দেবে জাপান। অর্থাৎ কোটি সমর্থকের স্বপ্নের সেলেসাওদের থামিয়ে দিতে পারে এশিয়ার শক্তিশালী দলটি।

গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছানো ব্রাজিলের সামনে দাঁড়াবে হাজিমে মোরিয়াসুর জাপান। আর ক্লেমেন্টের হিসাব অনুযায়ী, এই লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে জাপান।

তবে চমক এখানেই শেষ নয়। ক্লেমেন্টের ভবিষ্যদ্বাণীর পদ্ধতিও সাধারণ নয়। তিনি শুধু মাঠের গোল, জয়-পরাজয় বা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিবেচনা করেননি। তার বিশ্লেষণে যুক্ত হয়েছে একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, মাথাপিছু আয়, জনসংখ্যা এবং আবহাওয়ার মতো বিষয়ও।

এই সব তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে তার সম্ভাব্য ফলাফলের মডেল।

গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত গবেষণায় ক্লেমেন্ট আরও বড় এক চমক দিয়েছেন। তার মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা উঠবে নেদারল্যান্ডসের হাতে। ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়বে ডাচরা।

তবে ক্লেমেন্টের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ তার সব পূর্বাভাস এখন পর্যন্ত মিলছে না। নকআউট পর্বের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর দেখা গেছে, কিছু সম্ভাব্য ম্যাচ বাস্তবে হচ্ছে না।

তিনি জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় রাউন্ডের সম্ভাব্য লড়াইয়ের কথা বলেছিলেন। কিন্তু দুই দলই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থাকায় সেই ম্যাচের আর সুযোগ নেই। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে নিয়ে তার কিছু অনুমানও ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

তারপরও ব্রাজিল-জাপান এবং নেদারল্যান্ডস-মরক্কোর সম্ভাব্য ম্যাচ নিয়ে তার পূর্বাভাস এখনো আলোচনায় রয়েছে।

ফুটবল ইতিহাস বলে, বিশ্বকাপে কাগজের হিসাব অনেক সময় মাঠের বাস্তবতার কাছে হার মানে। বড় দল কখনো অপ্রত্যাশিতভাবে থেমে যায়, আবার ছোট দল লিখে ফেলে নতুন ইতিহাস।

তাই ক্লেমেন্টের মডেল যতই চমক দেখাক, শেষ কথা বলবে মাঠ। আর সেই অপেক্ষাতেই এখন ফুটবল বিশ্ব—ব্রাজিল কি সত্যিই বিদায় নেবে, নাকি আবারও সব হিসাব উল্টে দিয়ে জ্বলে উঠবে সেলেসাওদের স্বপ্ন?

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন