দেশজুড়ে

সাত সমুদ্র পেরিয়ে প্রেমিকার কাছে, বিয়ে না করেই ফিরলেন যুবক

ছবি: সংগৃহীত
আজকের প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়, সেখান থেকে বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম। সেই ভালোবাসার টানেই সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন চীনা নাগরিক এম এ হাইশান (৩৯)। তবে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে।

ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের উত্তর পার সাঁওতা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কুমারখালীর বাসিন্দা রিয়া আক্তারের সঙ্গে হাইশানের পরিচয় হয়। নিয়মিত কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে বুধবার (১০ জুন) সকালে চীন থেকে ঢাকায় আসেন হাইশান। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে রিসিভ করেন রিয়া ও তার দাদি। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কুমারখালীর বাড়িতে। তবে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তিনি ওই এলাকা ত্যাগ করেন।

রিয়া আক্তার জানান, পরিচয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং বয়স কম হওয়ায় পরিবারসহ অনেকেই বিয়ের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এ কারণে আপাতত বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে। তবে বয়স উপযুক্ত হলে তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাববেন বলেও জানান।

রিয়ার মা বলেন, মেয়ের বয়স কম হওয়ায় পরিবার বিয়ের অনুমতি দেয়নি। চীনা নাগরিকের সঙ্গে পরিচয়ের বিষয়টি মেয়ে আগে থেকেই পরিবারকে জানিয়েছিল।

অন্যদিকে, অনুবাদ অ্যাপের সাহায্যে হাইশান জানান, প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ের উদ্দেশ্যেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এবার বিয়ে সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তিনি দেড় বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তাদের এলাকায় এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। ফলে চীন থেকে আসা ওই ব্যক্তিকে এক নজর দেখার জন্য অনেকেই ভিড় করেন।

চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক মনজু বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। মেয়েটির বয়স কম হওয়ায় পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় চীনা নাগরিক নিজ দেশে ফেরত যান।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, পুরো বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে ছিল। মেয়ের বয়স বিবেচনায় পরিবার বিয়ের অনুমতি দেয়নি। বর্তমানে চীনা নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

 

এসি//

 
 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন