জাতীয়

বাজেটে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারদের জন্য মাসিক ভাতার প্রস্তাব

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বপূর্ণ অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন বাজেটে শহীদ পরিবার এবং আহত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য বিশেষ মাসিক ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

বাজেট নথি অনুযায়ী, আন্দোলনে শহীদদের পরিবার এবং আহতদের আঘাতের মাত্রা বিবেচনায় তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। শহীদদের প্রতিটি পরিবার এবং সবচেয়ে গুরুতর আহত ‘এ’ ক্যাটাগরির যোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি ‘বি’ ক্যাটাগরির আহতদের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা এবং তুলনামূলক কম গুরুতর ‘সি’ ক্যাটাগরির যোদ্ধাদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য কর সুবিধাও বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। তাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে। বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ–এর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর উপস্থিতিতে এই ৫৫তম বাজেট উপস্থাপন করা হয়। এটি বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী–এর প্রথম বাজেট। বাজেট উপস্থাপনের আগে এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি দেন। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন