লম্বা ট্যুর নয়, ক্লান্তি দূর করার আসল রহস্য অন্য কোথাও
ছুটি মানেই কি দীর্ঘ ভ্রমণ? পাহাড়, সমুদ্র কিংবা বিদেশ সফরের পরিকল্পনা? আমাদের অনেকের ধারণা, বছরের পর বছর কাজের চাপ সহ্য করার পর একবার লম্বা ছুটি পেলেই যেন সব ক্লান্তি, অবসাদ আর মানসিক চাপ দূর হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। হয়তো বহু প্রতীক্ষিত সেই ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরেছেন, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ না যেতেই আবারও একই ক্লান্তি, একই চাপ আর একই একঘেয়েমি ঘিরে ধরেছে আপনাকে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, মানসিক সতেজতা ধরে রাখতে বছরের শেষে দীর্ঘ ছুটির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে সারা বছরজুড়ে নেয়া ছোট ছোট বিরতি।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধে দেখা গেছে, প্রতি দুই মাস অন্তর কয়েক দিনের ছুটি বা কর্মবিরতি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মদক্ষতা এবং সামগ্রিক সুস্থতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষকদের মতে, দীর্ঘ ছুটি মানুষকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও তার প্রভাব খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় না। কাজে ফেরার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেই প্রশান্তির অনুভূতি ম্লান হয়ে যায়। অন্যদিকে নিয়মিত বিরতি নেয়ার অভ্যাস মানসিক চাপকে জমতে দেয় না। ফলে ক্লান্তি ও অবসাদ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কাজের প্রতি আগ্রহও বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মস্তিষ্কও একটি যন্ত্রের মতো। দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে কাজ করলে তার কার্যক্ষমতা কমে যায়। নিয়মিত বিশ্রাম মস্তিষ্ককে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করার সুযোগ দেয়। এতে মনোযোগ বাড়ে, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও উন্নত হয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা কাজের ফাঁকে ফাঁকে পরিকল্পিত বিরতি নেন, তারা সাধারণত বেশি উৎপাদনশীল হন। তাদের কাজের মানও তুলনামূলক ভালো হয়। কারণ তারা ক্লান্তি জমতে দেন না এবং নতুন উদ্যম নিয়ে কাজে ফিরতে পারেন।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বার্ষিক ছুটির সব দিন একসঙ্গে ব্যয় না করে সেগুলোকে বছরের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে নেয়া যেতে পারে। প্রতি দুই মাস অন্তর কয়েক দিনের বিরতি নেয়ার পরিকল্পনা করলে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি হয়।
দিনের শেষে ভালো কাজ করার জন্য প্রয়োজন শুধু দক্ষতা নয়, প্রয়োজন একটি সতেজ মনও। আর সেই সতেজতা ধরে রাখতে বছরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ছোট ছোট বিরতিকেই সঙ্গী করার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা। হতে পারে, আপনার পরবর্তী সেরা সিদ্ধান্তটি কোনো দীর্ঘ ভ্রমণ নয়; বরং ঠিক সময়মতো নেয়া কয়েক দিনের একটি ছোট্ট বিরতি।
এসি//