সিনেমার মঞ্চে রাজনীতির হাওয়া: বিজয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাম চরণ
আর মাত্র দুদিন পরেই আগামী ৪ জুন বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেতে যাচ্ছে দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম বিগ বাজেট ও বহু প্রতীক্ষিত স্পোর্টস অ্যাকশন-ড্রামা ‘পেদ্দি’। এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রুপালি পর্দায় জুটি বেঁধেছেন গ্লোবাল স্টার রাম চরণ এবং বলিউড ডিভা জাহ্নবি কাপুর। সিনেমাটির মুক্তিকে কেন্দ্র করে যখন দর্শকমহলে উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এর প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান থেকে এক ভিন্নধর্মী আলোচনায় মেতে উঠেছে সিনেমাপ্রেমী ও রাজনৈতিক মহল।
সম্প্রতি ‘পেদ্দি’ সিনেমার এক প্রি-রিলিজ অনুষ্ঠানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাম চরণ এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা রূপ নিয়েছে বিনোদন জগতের অন্যতম বড় টক অব দ্য টাউনে। সিনেমার কথা বলতে গিয়ে তিনি টেনে এনেছেন তামিলনাড়ুর নব্য মুখ্যমন্ত্রী এবং ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) দলের প্রধান, দক্ষিণী সিনেমার কিংবদন্তি তারকা থালাপতি বিজয়ের প্রসঙ্গ।
অনুষ্ঠানের জমকালো মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাম চরণ সদ্য সমাপ্ত তামিলনাড়ু নির্বাচনে বিজয়ের ঐতিহাসিক জয়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান। বিজয়ের এমন সাহসী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে রাম চরণ বলেন, জনপ্রিয়তা এবং তারকা খ্যাতির একেবারে শীর্ষে থাকা অবস্থায় অভিনয় জগৎকে বিদায় জানিয়ে সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা অত্যন্ত সাহসী এবং অনুপ্রেরণাদায়ক একটি সিদ্ধান্ত। একজন সহ-শিল্পী হিসেবে আমি বিজয়ের এই পদক্ষেপে ভীষণ গর্বিত।
রাম চরণের এই বক্তব্যের ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এক্স (সাবেক টুইটার), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ভক্তরা ভিডিওটি লুফে নিয়েছেন এবং রাম চরণের এই উদার মানসিকতা ও বিজয়ের রাজনৈতিক সাহসিকতার প্রশংসা করছেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে ঘোষিত তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছরের দ্রাবিড়ীয় রাজনীতির একচ্ছত্র আধিপত্য ও দুর্গ ভেঙে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় লাভ করে।
এই নির্বাচনে বিজয় নিজে দুটি আসন—পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লী (পূর্ব) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দুটি আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন রুপালি পর্দার মতো বাস্তব রাজনীতির মাঠেও তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।
রুপালি পর্দার প্রচারণা মঞ্চে দুই ইন্ডাস্ট্রির দুই মহাতারকার এই অদৃশ্য মেলবন্ধন যেন আরও একবার প্রমাণ করল—দক্ষিণী সিনেমা হোক কিংবা রাজনীতি, তারা একে অপরের পরিপূরক। এখন দেখার বিষয়, রাজনীতির মাঠের এই আলোচনা ৪ জুনের ‘পেদ্দি’ সিনেমার বক্স অফিস সাফল্যে কতটা বাড়তি হাওয়া দেয়!
এসি//