‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের বানান ভুল, জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর বরখাস্ত
জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর নাম প্রদর্শন এবং পরে সেই নামের বানান ভুল লেখার ঘটনায় জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (পশুপালন) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। তবে প্রজ্ঞাপনে অভিযোগের প্রকৃতি উল্লেখ করা হয়নি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সম্প্রতি জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত অ্যালবিনো মহিষটির পরিচিতি ফলকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর পরিবর্তে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরে সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত গড়ায়।
সূত্রগুলোর দাবি, শুধু বানান ভুল নয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে একটি মহিষের নাম সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী বোর্ডে বহাল রাখা নিয়েও আপত্তি ওঠে। পুরো বিষয়টিকে প্রশাসনিকভাবে বিব্রতকর হিসেবে দেখা হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, শুধু বানান ভুলের বিষয় নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন রাষ্ট্রনেতার নাম একটি প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত করা এবং পরে সেই নাম ভুলভাবে উপস্থাপন করাকে উপযুক্ত মনে করা হয়নি। এ বিষয়টি উচ্চপর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে ডা. মো. আতিকুর রহমানকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সমমান) পদে বদলি করা হয়। তাকে লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। একই প্রজ্ঞাপনে ডা. মো. হাবিবুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন কিউরেটর হিসেবে পদায়ন করা হয়।
ঈদুল আজহার আগে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের একটি বিরল অ্যালবিনো মহিষ দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। গোলাপি-সাদা শরীর, মাথার সামনে সোনালি রঙের চুল এবং ব্যতিক্রমী গড়নের কারণে খামারিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে মহিষটির নাম রাখেন।
ব্যতিক্রমী এই মহিষটি পরে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এর গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাণীটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় সরকার এবং পরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়। তবে চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনের সময় পরিচিতি ফলকে নামটি ভুলভাবে লেখা হলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। সমালোচনার পর ফলকটি পরিবর্তন করা হয় এবং বর্তমানে মহিষটি ‘সাদা মহিষ’ নামে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এসি//