কঙ্গোতে মিলিশিয়া হামলায় নিহত ৬৯
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৬৯ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১০ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় তিন দশক ধরে খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় কঙ্গো বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অস্থিতিশীল হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে সোনা সমৃদ্ধ ইতুরি প্রদেশে হেমা ও লেন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে।
‘কোঅপারেটিভ ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব কঙ্গো’ (কোডেকো) নামের বিদ্রোহী জোটের সদস্যরা গেল ২৮ এপ্রিল কয়েকটি গ্রামে হামলা চালায়। লেন্দু সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার দাবি করা এই গোষ্ঠীটির হামলার আগে ‘কনভেনশন ফর দ্য পপুলার রেভল্যুশন’ (সিআরপি) নামের আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী কঙ্গোর সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। সিআরপি নিজেদের হেমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করে।
দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, প্রতিশোধমূলক ওই হামলাগুলোতে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বিদ্রোহী সদস্য ও সেনাসদস্যও রয়েছেন। কোডেকো যোদ্ধাদের উপস্থিতির কারণে কয়েকদিন ধরে মরদেহ উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়।
স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতা দিয়োদোনে লোসা জানান, এখন পর্যন্ত মাত্র ২৫টি মরদেহ দাফন করা সম্ভব হয়েছে। আরও অনেক মরদেহ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
একটি মানবিক সহায়তা সংস্থার সূত্র জানায়, বাসা গ্রামের আশপাশে বহু মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন মোনুস্কো জানিয়েছে, সিআরপির হামলার সময় প্রায় ২০০ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে বেসামরিক মানুষের ওপর সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি।
হেমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী ‘এন্তে’ নামের একটি সংগঠন এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোবাল্ট, তামা, ইউরেনিয়াম ও হীরাসহ বিপুল খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি স্বার্থ, দুর্নীতি ও সশস্ত্র সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিআর কঙ্গো।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ সংকট উপদেষ্টা রাওইয়া রাজেহ বলেন, কঙ্গোর নিরাপত্তা বাহিনীর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘পূর্বাঞ্চলে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়। অনেক সেনা অন্য ফ্রন্টে সরিয়ে নেওয়ায় সাধারণ মানুষ পুরোপুরি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।’