শিক্ষকের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, হুমকিতে এলাকাছাড়া ভুক্তভোগীর পরিবার
নেত্রকোনার মদনে আমান উল্লাহ সাগর (৩০) নামের এক মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২বছর বয়সী এক ছাত্রী কে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠেছে। ধর্ষণের পর বর্তমানে মেয়েটি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার পর কিশোরীর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনার পর এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর।
অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহাড় বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি ওই গ্রামের হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচাহাড় গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রাসাতে তার স্ত্রীও শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। এই মাদ্রাসায় আশেপাশে এলাকার মেয়েরা লেখাপড়া করেন।
একই এলাকার স্বামী পরিত্যক্তা মহিলার একমাত্র মেয়ে ওই কিশোরী। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে কিশোরীর মা সিলেটে গৃহ পরিচালিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী কিশোরী নানীর কাছে থেকে ওই মহিলা কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতেন। এর মধ্যে গত বছর নভেম্বর মাসে আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনা কাউকে না জানাতে প্রাণনাশে ভয় দেন সাগর। পরে তার আরেক শিক্ষককে বলে মেয়েটিকে মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত করেন তিনি। পাঁচ মাস পার হওয়ার পর কিশোরী মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন আসে। সন্দেহ হলে মেয়েটির মা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে সে মাদ্রাসার শিক্ষক সাগরের ধর্ষণের স্বীকার হওয়ার বিষয়টি তার মাকে জানায়।
ঘটনাটি জেনে কিশোরীর মা এলাকায় আসেন বিচার চাইতে। আমান উল্লাহর পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার না পেয়ে উল্টো তাদের হুমকি দেয়ায় সে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মাদ্রাসার একজন শিক্ষক বলেন ফাতেমা তুয যোহরা মাদ্রাসা পরিচালক ও শিক্ষক আমানুল্লাহ সাগরের নির্দেশে প্রায় পাঁচ মাস আগে ওই মেয়েটিকে কোন একটি অজুহাত দেখিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। মেয়েটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরটি শুনে বুঝতে পেরেছি কেন তাকে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর এক স্বজন জানান, ‘শিশুটির উপর পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। নানার বাড়িতে থেকে সাগর হুজুরের মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। সাত-আট মাস আগেও তিনি মেয়েটিকে শারীরিকভাবে যৌন হয়রানি করেন আমান উল্লাহ। তারা এলাকার প্রভাবশালী, আমরা নিরীহ মানুষ। এলাকায় থাকতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কিছু করার সাহস সামর্থ্য কোনটাই আমাদের নেই। এরপর ৪-৫ মাস আগে মেয়েটিকে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেন সাগর’।
আমান উল্লাহ সাগরের বড় ভাই মামুন মিয়া জানান, ‘আমাদের কাছে কেউ বিচার চাইতে আসেনি। কয়েকদিন আগে ওই মেয়েটির মা বাড়িতে এসেছিল। পরে মানুষের মুখে শুনেছি আমার ভাই সাগরের ধর্ষণে নাকি তার মেয়ে ছয় মাসে অন্তঃসত্তা। আমি দুইদিন আগে মেয়েটির নানার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়েছিলাম। তারা এখানে নেই। তবে যদি ধর্ষণের কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আমিও চাই সুষ্ঠু বিচার হোক। তবে এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে তার ভাই লোক লজ্জার ভয়ে বাড়ি থেকে চলে গেছে’।
কাইটাইল ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ সোহেল মিয়া বলেন, মানুষের মুখে শুনেছি মেয়েটির মা এলাকায় এসেছিল তার মেয়ের ধর্ষণের বিচার চাইতে। আমান উল্লাহ সাগরের ধর্ষণে নাকি ওই মেয়েটি অন্তঃসত্তা হয়েছে। মেয়েটির মা এলাকার অনেকের কাছেই বিচার চাইতে গিয়েছিল। কেউ এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলতে চায়নি।
এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হাসনাত জামান জানান, এরকম কোন ঘটনা আমি জানিনা। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আই/এ