জ্বালানি সংকটে পরিবহন ব্যবস্থায় অটোরিকশা ভালো সাপোর্ট দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারি কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, চলমান ফুয়েল সংকটের সময় এসব হালকা যানবাহন পরিবহন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে কার্যকর সহায়তা দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি আনছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, জ্বালানি সংকটের সময় সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, এমনকি দোকানপাট বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। অথচ ঢাকা শহরে প্রায় ২০ লাখ অটোরিকশা রয়েছে, যেগুলো গ্যারেজে চার্জ দেয়া হয়। এ অবস্থায় অবৈধভাবে ১২ থেকে ২০ লাখ অটোরিকশা চার্জ দেয়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কি না—তা জানতে চান তিনি।
এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি আপাতত একটা কথা বলি। আমাদের যেই সংকটটা এখন তৈরি হয়েছে, আমি আগে একদিন বলেছিলাম, যেই ধরনের ভেহিকেল চলে, আমাদের কিন্তু আস্তে আস্তে ইলেকট্রিক ভেহিকেলে যেতে হবে। আমরা তো মানে সবার কার (গাড়ি) এফোরড করা সবার জন্যে সম্ভব নাহ। যেই ধরণের ভেহিকেল আমরা দেখি যেমন অটোরিকশা, এগুলোকে আসলে এনকারেজ (উৎসাহ) করতে হবে। এটা হল বেসিক প্রিন্সিপাল। ভবিষ্যৎ ওইদিকেই যাচ্ছে।
একইসঙ্গে এই ভেহিক্যালগুলা যথেষ্ট মেকানিক্যালি সেফ নাহ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এগুলোর মধ্যে আসলে নানান ঝামেলা আছে এবং প্রচুর এক্সিডেন্ট হয়। এই মুহূর্তে যেহেতু একটা ফুয়েলের ক্রাইসিস আছে, আমাদের এই ভেহিকেলগুলো ভালো সাপোর্ট দিচ্ছে। চার্জের ব্যাপারে আমি আপনার সঙ্গে একমত। যে এখানে প্রচুর টাকা অপচয় হয়। কিন্তু চার্জের ক্ষেত্রে আমি যতদূর বুঝি এটা আমি আমার সেন্স থেকে বলছি। আমাদের পিক আউয়ারে ওনারা চার্জ দেন না। এই চার্জগুলো সম্ভবত রাতের দিকে হয়। ফলে এই সময় আমাদের কিছু এক্সেস বিদ্যুৎ অথবা বিদ্যুতের চাহিদা খানিকটা কম থাকে এবং এতে হয়তো প্রেশার হয় না। তারপরও কোনরকম মিটার ছাড়া কোন রকম খরচ ছাড়া চার্জ দিচ্ছেন এটা নাহ। এই নীতি মালার আমাদের তো এই গুলাকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
অবশেষে তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, যেখানে যানবাহনগুলোর মানদণ্ড, প্রয়োজনীয় শর্তাবলি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি এসব যানবাহনের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াও চালু করা হবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পুরো ব্যবস্থাটি একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসি//