৫ জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১১ জনের
সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের চার উপজেলায় ৫ জন, রংপুরের মিঠাপুকুরে ২ জন এবং নেত্রকোণার আটপাড়ায় ১ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, হবিগঞ্জে ১ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তারা নিহত হন।
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর,জামালগঞ্জ, দিরাই ও ধর্মপাশা এই চার উপজেলায় পৃথক পৃথক বজ্রপাতে ৫ কৃষক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন—তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক এর পুত্র আবুল কালাম (২৫)। তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান এবং ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান এবং জয় শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতী পুর গ্রামের রহমত আলী( ১৩)। এ সময় জয়নাল ও আসমা নামে দুজন আহত হয়েছেন। দিরাই উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের লিটন মিয়া-(৩৮) ও বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে একটি হাঁসের খামারে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এসময় তাঁর সাথে থাকা নূর মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন। দুপুরে জামালগঞ্জের পাকনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান ও তাঁর চাচাতো ভাই তোফাজ্জল আহত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তোফাজ্জল ও নূর মোহাম্মদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। ধর্মপাশার টগার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান কৃষক হাবিবুর রহমান। রহমত আলী নামে কলেজ ছাত্র ও ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামে একটি মৎস্য খামারে আজ দুপুরের মাছ ধরার সময় বজ্রাপাতে ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- রামেশ্বরপাড়া গ্রামের মিলন মিয়া (৩৫) এবং সখীপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫)।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এম এ হালিম লাভলু জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুসহ আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নেত্রকোনার আটপাড়ায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছে। আলতু মিয়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে হাতিয়া গ্রামের সামনের মেষির হাওরে এ ঘটন ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটপাড়া উপজেলার হাতিয়া গ্রামে দুপুরে বাড়ির সামনের মেষি হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যায়। কিছুক্ষণ পর আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। বৃষ্টি শেষে স্থানীয়রা হাওরে গিয়ে আলতু মিয়ার পরে থাকতে দেখে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শাহ নুর রহমান জানান, বজ্রপাতে নিহত পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আগামীকাল অফিস খোলার পর সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে যে ধরনের সহযোগিতা করা যায় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
এছাড়াও ময়মনসিংহে দুইজন ও হবিগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
আই/এ