হরমুজ প্রণালি খুলতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
দীর্ঘদিন উত্তেজনার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং প্রাথমিক প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রণালি খুলে দেওয়ার খবর প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ১১ শতাংশের বেশি কমে যায়। দিনের শেষে দেখা যায়, একদিনে তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে, যার ফলে এ দরপতনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯ ডলার কমে ৯০ দশমিক ৩৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন তেলের দামও ১১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে ৮৩ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, গত দুই সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে তেলের দামে যে ঝুঁকি প্রিমিয়াম যুক্ত হয়েছিল, তা দ্রুত কমে যাচ্ছে।
শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে রওনা দিয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন অনুমোদিত হলেও তা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে করতে হবে। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের কিছু ফ্রিজকৃত অর্থ ছাড়ের বিষয়ও যুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি তিন পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান আগামী ২০ বছর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদভাবে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে ইরান এসব দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।
এদিকে, তিনি ইসরাইলকে লেবাননে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন, যাতে চলমান উত্তেজনা আরও না বাড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি খুলে দেয়া হলেও ইউরোপীয় বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপের বন্দরে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় তিন সপ্তাহ লাগে। একই সঙ্গে পেন্টাগন জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান না হলে হরমুজ প্রণালি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তবে আপাতত তেলের দাম কমায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার আশা করা হচ্ছে।
এসি//