আন্তর্জাতিক

তেলের দাম কমাতে ৩০ দিনের জন্য ইরানি তেল বিক্রিতে ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সমুদ্রপথে ইরানি তেল কেনাবেচার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।

মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে যোগ হবে, যা সরবরাহ সংকট কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের আশঙ্কা, উচ্চ জ্বালানি মূল্য দেশটির ব্যবসা ও ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। 

ট্রেজারি বিভাগের জারি করা লাইসেন্সে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রি ও সরবরাহ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ইরানি তেল আমদানির সুযোগ থাকবে। যদিও দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তবে এই তেল পৌঁছাবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

এই ছাড় ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং কিছু দেশ ও অঞ্চল—যেমন কিউবা, উত্তর কোরিয়া ও ক্রিমিয়া—এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনসহ এশিয়ার দেশগুলো এই সিদ্ধান্তে বেশি লাভবান হতে পারে, কারণ তারা ইরানি তেলের বড় ক্রেতা। দ্রুত সরবরাহ শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যেই তেল এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর আগে রাশিয়ার তেল নিয়েও একই ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে ইরান-সংক্রান্ত চলমান উত্তেজনার জেরে তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব পদক্ষেপের প্রভাব সীমিতই থাকতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন