তেল-গ্যাস সরবরাহ নিয়ে ইউরোপকে পুতিনের শর্ত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, যদি ইউরোপ দীর্ঘমেয়াদি ও রাজনৈতিক চাপমুক্ত সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে রাশিয়া আবারও ইউরোপীয় ক্রেতাদের কাছে তেল ও গ্যাস সরবরাহ করতে প্রস্তুত। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে ইউরোপে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে এই ঘোষণা দিয়েছেন রুশ নেতা।
ইউক্রেনের যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে ইউরোপীয় দেশগুলো সম্প্রতি দেশটির কাছ থেকে তেল ও গ্যাসের ক্রয় প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘর্ষের কারণে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার (০৯ মার্চ) এক বক্তব্যে পুতিন বলেন, ‘যদি ইউরোপীয় কোম্পানি ও ক্রেতারা হঠাৎ করে নিজেদের অবস্থান বদলে আমাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি, স্থিতিশীল ও রাজনৈতিক চাপমুক্ত সহযোগিতা করতে চায়— তাহলে অবশ্যই এগিয়ে আসুক। আমরা কখনোই তা প্রত্যাখ্যান করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইউরোপের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে তাদের কাছ থেকে এমন কিছু স্পষ্ট বার্তা প্রয়োজন যে তারা সত্যিই আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চায় এবং এই সহযোগিতার স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।’
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রুশ তেলের ওপর আরোপ করা কিছু ‘নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহার করবেন তিনি।
এএফপির প্রতিবেদন মতে, পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সোমবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তেলের দাম কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমরা কিছু নিষেধাজ্ঞা বাতিল করছি।’
ট্রাম্পের কথায়, ‘আমরা কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেগুলো বাতিল করব।’
তবে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট দেশের নাম বলেননি। এমনকি কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবং সেটা কীভাবে বাতিল করবেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট করেননি তিনি।