আন্তর্জাতিক

কার্টেল নেতার হত্যার পর অস্থির মেক্সিকো, দেশজুড়ে সহিংসতার ঢেউ

মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক কার্টেল জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-এর প্রধান নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস ওরফে ‘এল মেনচো’ সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

রোববার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর গুয়াদালাহারা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে এক সামরিক অভিযানে এল মেনচোকে হত্যা করা হয়। গুয়াদালাহারা জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী এবং সিজেএনজির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩২টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২০টিতে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে গুয়াদালাহারাতেই পাঠানো হয়েছে অন্তত দুই হাজার সেনা।

অভিযানের পরদিন গুয়াদালাহারা ও আশপাশের শহরগুলোতে স্কুল বন্ধ রাখা হয়। গণপরিবহন সীমিত আকারে চালু থাকলেও যাত্রী উপস্থিতি ছিল কম। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

মেক্সিকোর নিরাপত্তামন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচ জানান, অভিযানে ও পরবর্তী সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে ২৫ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য রয়েছেন। ৫৯ বছর বয়সী এল মেনচো মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশেই মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত ছিলেন।

তার মৃত্যুর পর সন্দেহভাজন সিজেএনজি সদস্যরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গাড়িতে আগুন দেয়, মহাসড়কে ট্রাক ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে এবং ব্যাংক, পেট্রল পাম্প ও দোকানে হামলা চালায়।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম দাবি করেছেন, দেশে শান্তি ফিরে এসেছে এবং বড় কোনো সড়ক অবরোধ নেই। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে এবং কার্টেল নেতাকে নির্মূল করায় মেক্সিকোর বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

শেইনবাউম স্পষ্ট করেছেন, সরাসরি অভিযানে অংশ নিয়েছে কেবল মেক্সিকোর ফেডারেল বাহিনী; যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা এতে যুক্ত ছিল না। তবে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সিজেএনজির ভেতরে স্পষ্ট উত্তরসূরি না থাকায় ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হতে পারে। সেই শূন্যতাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সহিংস অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ঝুঁকি রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন