জাতীয়

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি দৃশ্যমান হচ্ছে : টিআইবি

অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সবার জন্য প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন  আয়োজনে কমিশন ও অন্যান্য অংশীজনের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি দৃশ্যমান হচ্ছে বলে জানিয়েছে টিআইবি। রাজনৈতিক সংঘাত, আচরণবিধি লঙ্ঘন, অনিয়ম ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা প্রতিরোধে  নির্বাচন কমিশনের কার্যকর প্রয়োগ দৃশ্যমান নয়

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত প্রাক নির্বাচন ও গণভোট পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণশীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই শঙ্কার কথা জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন,  অনলাইন ও অফলাইন প্রচারণাসহ নির্বাচনের প্রায় প্রতিটি স্তরে দল ও প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিবিধ অনিয়ম করলেও কমিশন তা এড়িয়ে যাচ্ছে। যা নির্বাচনে সকল দল এবং প্রার্থীর প্রতিযোগিতার সমান ক্ষেত্র এবং সকল শ্রেণির ভোটারদের জন্য অপরিহার্য সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যাপক ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি করছে।

টিআইবি বলছে, শুরুতে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতা দেখা গেলেও ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচনি কার্যক্রমের পুরোনো রাজনৈতিক চর্চা বজায় রেখেছেন। আগের মতো রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা নির্বাচনে অর্থ, ধর্ম ও পেশিশক্তির ব্যবহার শুধু অব্যাহত রাখেননি, বরং বিশেষ করে অর্থ ও ধর্মের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।

গণভোট নিয়ে টিআইবি প্রধান বলেন, ঐতিহাসিক গুরুত্বের গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত, অস্পষ্ট আইনগত ব্যাখ্যা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে, যা পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে সরকার শুরু থেকেই দোদুল্যমান অবস্থানে ছিল। উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টায় যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, তা গণভোটের প্রশ্ন ও উদ্দেশ্যকে আরও অস্পষ্ট করেছে।

তিনি বলেন,  প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশও নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রাহকদের হয়রানি ও হুমকির ঘটনাও উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, গুগল ও মেটার মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট সরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের সমন্বয়হীনতা, আইনি বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশা অনুযায়ী জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।  দেশবাসীকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নাএবং জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে স্পষ্টভাবে হ্যাঁবলার আহ্বান জানান তিনি

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন